বাবুগঞ্জে চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি, অতঃপর পদ স্থগিত
বাবুগঞ্জে চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি, অতঃপর পদ স্থগিত
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো :
অবৈধ আত্মঘাতি ড্রেজার (বালু উত্তোলন) ব্যবসায়ীর কাছে দাবিকৃত চাঁদার টাকা আনতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বিএনপির দুই নেতা। এরপর তাদের দীর্ঘসময় আটক করে রাখা হয়। পরবর্তীতে লিখিত মুচলেকা দিয়ে জনতার রোষানল থেকে রেহাই পেয়েছেন ওই দুই বিএনপি নেতা।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে অভিযুক্ত ওই দুই বিএনপির নেতার দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হোসেনের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পদ স্থগিত হওয়া ও এরপূর্বে গণপিটুনির শিকার দুই নেতা হলেন-চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান ওরফে জাকির মোল্লা এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও বালু ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আত্মঘাতি ড্রেজার মেশিন দিয়ে তিনি বালু উত্তোলন করছিলেন। এসময় জাকির মোল্লা ও আব্দুল রাজ্জাক তার কাছে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদার টাকা নিতে তারা সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় আসেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি তিনি (জহিরুল) স্থানীয়দের কাছে জানালে উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দুই নেতাকে গণপিটুনি দিয়ে আটক করে রাখেন। পরে প্রায় দুই ঘন্টাপর ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়াবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। জহিরুল ইসলাম আরো জানিয়েছেন, জাকির মোল্লা ও আব্দুল রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্নব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, খালের মাটি বিক্রি, সালিশ-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
তাদের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ওয়ার্ড বিএনপির ওই দুই নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিএনপিতে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো স্থান নেই দাবি করে তিনি আরও বলেছেন, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে এমন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে অভিযুক্ত জাকির মোল্লা বলেন, আমরা বালু ব্যবসায় অংশীদার হতে চেয়েছিলাম। তারা আমাদের ডেকে এনে চাঁদা দাবির মিথ্যে অভিযোগ তুলে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স